বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনাপরবর্তী পৃথিবী



মতি গাজ্জালী::
নবেল করোনা মানুষ জয় করবে। এটা নিশ্চিত। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায, মানবজাতির সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান কি?
যুদ্ধ থেমে যাবে? আগ্রাসন বন্ধ হবে? বাণিজ্য যুদ্ধ কি বন্ধ হবে? মধ্যপ্রাচ্য আফ্রিকা আর ল্যাটিন আমেরিকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদের অবসান হবে?
মানুষের যে মনোবৈকল্য, আচরণগত সমস্যা তা কি শুধরানো যাবে? সংখ্যলঘু, ধর্মবিরোধ, জাতিগত দাঙ্গা, গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব এসবের কি হবে? রাতারাতি কি জনগণের শাসন জারি হবে সবদেশে? স্বেচ্ছাচার স্বৈরাচার কি নির্মূল হয়ে যাবে?
এমন অনেক সমস্যা বিদ্যমান। মানুষের মধ্যে যে দূরত্বের সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তা রুখে দেয়া জরুরি। কিন্তু আদৌ কি সম্ভব?
বড় সংকট তৈরি করবে খাদ্য আর কর্ম। খাদ্যের সুষম বন্টন জরুরি। কিন্তু দায়িত্ব নেবে কে? কর্মবাজার সঙ্কোচিত হতে পারে। কারণ কর্পোরেট কালচার আর মানুষের ওপর আস্থা রাখবে না। এবারের মহামারির কারণে হোমকোয়ারিন্টাইনে শ্রমিক কর্মচারি বন্দি। ব্যবসায়ীদের বিজনেস প্রচন্ড ধাক্কা খেয়েছে। তারা রোবটিক শ্রমিক নিয়োগে আগ্রহী হলে ব্যাপক বেকারত্ব দেখা দেবে দেশে দেশে। তার পরিনাম কতটা ভয়াবহ হবে, এখনই আঁচ করা যায়। সেই সংকট মুকাবিলা করা কোনো সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
এখন প্রশ্ন হলো, আগামীর পৃথিবী কোন দিকে যাবে। কারা নেতৃত্ব দেবে মানবজাতিকে। সেসব বৈশ্বিক পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠবে আগামীর পৃথিবী। এসময়কে জিরো আওয়ার ধরতে হবে। অতীত নিয়ে ভাবনা নয়। সামনে কি করতে হবে, তা নিয়ে বিশ্বসভায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা সমঝোতায় আসতে হবে। জাতিসংঘকে শক্তিশালী সংস্থায় পরিনত করতেই হবে। পাঁচ অক্ষশক্তির ভেটো ক্ষমতা খর্ব করে দিতে হবে। এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে তারা পৃথিবীকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে চালাচ্ছে। আর আমেরিকাকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রজ্ঞাশীল নেতৃত্ব দিতে হবে। একজন ওজনদার ও মানবিক নেতার প্রয়োজন আমেরিকায়। প্লে বয় আর শো বিজ বয় দিয়ে আমেরিকাও নয়, বিশ্বও নয়, কোনোটার নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। যদি এই নেতৃত্ব অব্যাহত থাকে, আগামীর পৃথিবী ভয়ঙ্কর এক ধ্বংসের দিকে, পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে। বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ আর বেকারত্ব পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেবে।
চীন রাশিয়ার শাসন ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসতে হবে। মানুষকে যেসব দেশ কথা বলতে দেয় না, ধর্ম পালন করতে দেয় না, সেসব দেশ কখনোও বিশ্বমানবের সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারে না। জনগণের ক্ষমতা শক্তি আর ইচ্ছাকে যেসব সরকার গলাটিপে হত্যা করে, তাদের খারাপ সময়ও আসছে। তারা যদি জনগণের মোটিভ আঁচ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের পতন অনিবার্য। তাদেরও শাসনে মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ করে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতেই হবে। আর আইনকৃঙ্খলা বাহিনীকে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
পৃথিবীর এই চরম সংকটকালীন সময়ে রাশিয়া ও চীনের নেতৃত্বসহ সকলের মুখ বন্ধম সকলে অঙ্ক কষছে। নতুন পরিকল্পনা করছে নিশ্চয়। তবে এক রাষ্ট্র আরেক রাষ্ট্রকে একঘরা করার পরিকল্পনা মাথা থেকে বাদ না দিলে আগামীর সংকট বর্তমান থেকেও ভয়াবহতম হতে বাধ্য। মহামারি আরও আসবে। নতুন রূপে আসবে। মানুষ সবই মুকাবিলা করবে। কিন্তু মনোরোগের মহামারির ওষুধ কোথায়?
শাসনে মানবিকতা কোথায়? কল্যাণমুখী রাষ্ট্র কোথায়? যুদ্ধবন্দের সম্মিলিত আহŸান কোথায়? পাঁচশক্তির একতা কোথায়?
তবুও আশায় আছি বসন্তবাতাসের। অপেক্ষায় আছি নতুন এক পৃথিবীতে নতুন এক সূ্র্েযর। ( চলবে)
লেখক : কবি, শিক্ষাবিদ।

  •