বুধবার, ২৭ মে ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লকডাউন শিথিল অশনিসংকেত, ব্যবসায়ীদের মানবিক পদক্ষেপ



বাংলাদেশের করোনা আক্রমণের পিক আওয়ারে ১০ মে থেকে সরকার লকডাউন শিথিল করে দোকান ও শফিংমল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দোকান মালিক সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার শর্ত সাপেক্ষে এই অনুমতি দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন বাংলাদেশ এখন করোনা ভাইরাস আক্রমনের চূড়ান্ত সময় অতিবাহিত করছে। এই বিবেচনায় সরকারের লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত অশনিসংকেত। অবশ্য ব্যবসায়িরা সরকারের লকডাউন শীতিলের সিদ্ধান্ত মানবিক বিবেচনায় অনেক এলাকায় গ্রহণ করেননি। এজন্য ঐসকল এলাকার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ।
ইতোমধ্যে সিলেট চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, রাজশাহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ অনেক এলাকার ব্যবসায়ীরা ঈদুল ফিতর পর্যন্ত দোকান না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজধানীর বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্ক নিউমার্কেট মৌচাকসহ প্রধান প্রধান শপিংমল বন্ধ রাখার কথা বলেছে।। জীবিকার প্রয়োজনে লকডাউন পর্যায়ক্রমে উঠিয়েছে অনেক দেশ। সেসব দেশ বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে তা করেছে। ওই সকল দেশে কোভিড ১৯ যখন নিয়ন্ত্রণে বা নিম্নমুখী তখনই তারা লকডাউন শিথিল করেছে। আমাদের এখন সব বিবেচনায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পিক আওয়ার চলছে। এই সময়ে লকডাউন শিথিল করা বিজ্ঞানসম্মত হয়নি।
বাংলাদেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। সরকার শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের কথা বিবেচনা করে ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন। ইউরোপের দেশগুলোতে করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লে সরকার ২৯ মার্চ দেশের সকল সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে আক্রান্ত এলাকা লকডাউন করতে থাকে। পাঁচ দফা ছুটি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের প্রায় সব এলাকাই এখন লকডাউনের আওতায়। লকডাউনের দীর্ঘ ৪২ দিন পর এবং প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্তের ৬৩ দিন পর ১০ মে থেকে লকডাউন শিথিল করে শর্তসাপেক্ষে সীমিত আকারে শপিংমল ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে সিলেট, চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য এলাকায় শপিং মল ও দোকানপাট না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ৭ মে থেকে মসজিদও সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে মুসলি­দের নিরাপত্তার স্বার্থে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা বাধ্যতামূলক কিছু নিয়ম প্রতিপালন করার জন্য মসজিদ কমিটিকে আহŸান জানানো হয়েছে। লকডাউন শিথিল করে শপিংমল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর এর বিপক্ষে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক সংবাদ মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রকাশ পাচ্ছে। এটি করোনা সংক্রমণের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেউ কেউ উদাহরণ দিচ্ছেন প্রথম সংক্রমণের ৫০তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ছয় হাজার, যা এখন দাঁড়িয়েছে ১১ লাখের ওপরে। আর বাংলাদেশে যেখানে প্রথম ৫০ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার, সেখানে লকডাউন শিথিল ভয়ংকর ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা লকডাউন শিথিলের বিপক্ষে নয়। তারা ছয়টি শর্ত কঠোরভাবে মেনে লকডাউন শিথিল করতে বলেছে। শর্তগুলো হলোÑকড়া নজরদারি, আইসোলেসনের ব্যবস্থা, আশঙ্কা থাকলেই পরীক্ষা, সংস্পর্শে যাওয়া সবাইকে চিহ্নিত করা, কর্মক্ষম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রাখা, লকডাউন পরবর্তী সময়ে জনগণকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।
সবচেয়ে আগে মানুষের জীবন রক্ষা করতে হবে। জীবনের প্রয়োজনে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে হবে। একটি আরেকটির পরিপূরক। তাই দু’টো কাজ সম্পাদন বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে করতে হবে। নতুবা এর খেসারত দেশের জনগণকে দিতে হবে।