বুধবার, ২৭ মে ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিন ও কাশ্মীর সমস্যা কাদের স্বার্থে?



মতি গাজ্জালী::
যখন সংবাদ আসে, বোমারুবিমানের বোমাবর্ষণে শিশুখুন। জানমালের ব্যাপক ক্ষতি। তখন মনে হয়, জাতিসংঘ কেন এখনো টিকে আছে? এর প্রয়োজন কি? ফিলিস্তিনিদের সমস্যার আজও সমাধান হলো না। তাদের স্বাধীনতা নেই। নিজ মাটি থেকে মানুষ উচ্ছেদ হচ্ছে ক্রমে। ইসরাইলের স¤প্রসারণ আর সাম্রাজ্য বিস্তারের ভয়ানক নেশা থেকে ফিলিস্তিনকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসছে না। এমন কি নিন্দা করারও দেশ পাওয়া যায় না। বিশ্বনেতৃবৃন্দ মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বীভৎস কাহিনি দ্বিতীয়টি নেই। মুসলান রাষ্ট্র, ওরা মুসলিম, এ হলো তাদের অপরাধ।
কাশ্মীরের অবস্থাও অনুরূপ। ১৯৪৭ এ পাকিস্তান ও ভারত, দুটি দেশের স্বাধীনতা লাভ। তারপর যুদ্ধ। কাশ্মীরের এক অংশ পাকিস্তান, আরেক অংশ ভারত দখলে নেয়। সে এক দীর্ঘ ইতিহাস। আমি সেদিকে যাব না। শুধু বলতে চাই, কাশ্মীর ইস্যুতেও জাতিসংঘে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া ছিল। তা ছয় দশকেও বাস্তবায়ন হয়নি। হবেও না। অথচ রক্তের গঙ্গা বয়ে চলেছে সেখানে। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ হয়েছে। স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা শক্তিবলে দাবিয়ে রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ নিরব। বিশ্বসমাজ নীরব। বিশ্বমানবতা নীরব। এই উপত্যকাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান জন্মলগ্ন থেকে পরস্পরের শত্রু। যুদ্ধ হয়ে আসছে সেই কবে থেকে। এখনও দু দেশের সরকার সীমান্তে যুূদ্ধ যুূদ্ধ খেলে। আর দু দিকের জনগণ সরকারের পিঠ চাপড়ায় আর শাবাশ-শাবাশ ধ্বনি দেয়।
মূর্খসব। মূঢ়জন সব। সৈন্য মরছে দুদিকে। এরা কারা? এরা তো কারো বাবা বা সন্তান। সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে কত সেনা খুন হচ্ছে। কত বিলিয়ন বিলিয়ন টাকার অস্ত্র কিনতে হচ্ছে। এসব টাকা গরিবের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যবহার হলে দুটি দেশই উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করত। তা না করে, দিন দিন গরিবির পথে রাষ্ট্র ও জনগণকে নামিয়ে আনা হচ্ছে। আর দুদিকের জনগণ পরস্পরকে শত্রু গণ্য করছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও পরস্পর বিরোধিতার মধ্যে বেড়ে ওঠছে। এ দুটি দেশের চিরশত্রতা গোটা উপমহাদেশের রাজনীতিকে দু ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। সার্কের মতো একটা সুন্দর সংস্থা ব্যর্থ হলো দু দেশের বিরোধের কারণে।
অথচ ইউরোপের প্রতিটি দেশ তার প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বিশাল ইউরোপকে একটা ইউনিয়নে বেঁধে নিয়েছে। শাসনে চলনে বলনে ইউরোপ পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করে আছে। সুখী ও সমৃদ্ধ ইউরোপ যে কোনো দেশের নাগরিকের কাম্য ভালোলাগা মহাদেশ। আইন কানুন, সমাজ, শিক্ষাসহ সব দিক দিয়ে নাগরিকবান্ধব।

ভারত উপমহাদেশ সেই সুযোগ নিতে ব্যর্থ, ধর্ম আর সা¤প্রদায়িক রাজনীতির কারণে। সরকারগুলো ধর্মকে হাতিয়ার করে জনআস্থা লাভের সহজ হাতিয়ারটি কখনো হাতছাড়া করতে চায়নি। ফলে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো এ দুটি দেশকে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য, অস্ত্রবাণিজ্য করার জন্য শত্রু বানিয়ে রেখেছে। কাশ্মীর সমস্যা জিইয়ে রেখেছে। কাশ্মীর দুটি দেশের হাতছাড়া হলে অর্থাৎ, বৃহৎ স্বাধীন কাশ্মীর হলে, ভারত পাকিস্তান একটা বড় অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। কাশ্মীর ইস্যু টিকিয়ে রাখতে দেশ দুটির যে পরিমাণ জানমালের ক্ষতি হচ্ছে, তা ঘুচে গেলে, দেশ দুটির পাপমোচন হবে এবং অতিদ্রুত অর্থনৈতিক মুক্তি ও সমৃদ্ধি আসবে। অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাও ফিরে আসবে। স¤প্রদায়গত স¤প্রীতি ফিরে আসবে। মানুষের মধ্যে আস্থার যে সংকট, তা দূর হবে।

লেখক : কবি, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ।