বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইতালিতে ৫ লক্ষাধিক অবৈধ অভিবাসী বৈধতা পাচ্ছেন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক::
ইতালিতে দীর্ঘ আট বছর পর পাঁচ লক্ষাধিক বেশি অবৈধ অভিবাসী বৈধতা পাচ্ছে। গত বুধবার দেশটির মন্ত্রিসভায় এ সম্পর্কিত একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এবার শর্তসাপেক্ষে দু’টি খাতে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে আগামী পহেলা জুন থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবারে দু’টি খাতে দেওয়া হচ্ছে এ বৈধতা। যেসব অনিয়মিত অভিবাসীরা কৃষিখাত এবং বাসার কাজ ও প্রবীণদের দেখাশোনার কাজ করছেন, কেবল তারাই এ বৈধতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।সরকারের এ সিদ্ধান্তের সন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশটির প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে কেবল দু’টি খাতে বৈধতার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশি অনিয়মিত অভিবাসীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এই সুযোগে দালালচক্র সক্রিয়ে হয়ে উঠতে পারে উল্লেখ করে সতর্ক থাকার আহŸান জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতারা।
রোমে বাংলাদেশের স্থায়ী দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান শিকদার জানান, বৈধতার সুযোগ পেতে অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের দূতাবাস থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। কারো কোনো সার্টিফিকেট প্রয়োজন হলে কিংবা পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা করা হবে।
দুটি খাতে নিয়মিত করার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাংলাদেশি অনিয়মিতরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পেতে সক্ষম হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইতালির কোয়ালিশন সরকারের দুটি রাজনৈতিক দল ‘ফাইভ স্টার মুভমেন্ট’ এবং ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি’র মধ্যে মঙ্গলবার রাতে দীর্ঘ আলোচনার পর বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এরপর সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। চলতি বছরের ৮ মার্চের আগ থেকে যারা কৃষিকাজ বা বাসাবাড়ির কাজ করছেন তাদের মালিকরা নিজ শ্রমিকের পক্ষে আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণসহ সরকারি ট্যাক্স ৪০০ ইউরো জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। কাজের কন্ট্রাক্ট যতদিন করা হবে, ততদিনের ‘স্টে পারমিট’ (পেরমেচ্ছো দি সোজর্ন) দেওয়া হবে বলে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে।
তবে মালিকদের ব্যাপারে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। যেসব মালিকের নামে পেনাল কোডের মামলা রয়েছে তারা এ আবেদন করতে পারবেন না। বিদেশি মালিকদের ক্ষেত্রে অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদী ‘স্টে পারমিট’ (কার্তা সোজর্ন) থাকতে হবে। একইসঙ্গে কোনো অনিয়মিত অভিবাসীর নামে পেনাল কোডের মামলা থাকলে তিনি নিয়মিত হওয়ার আবেদন করতে পারবেন না।
এছাড়া আরেকটি বিশেষ ক্যাটাগরিতে অবৈধ অভিবাসীরা বৈধ হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। যাদের ‘স্টে পারমিট’ ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবরের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, এই ক্যাটাগরিতে কেবল তারাই কাজ খুঁজে নেওয়ার জন্য ৬ মাসের বিশেষ ‘স্টে পারমিট’ পাবেন। কাজ খুঁজে পেলে তা পরিবর্তন করে পরবর্তীতে স্বাভাবিক ‘স্টে পারমিট’ (দু’বছরের জন্য) নেওয়া যাবে। মাত্র ১৬০ ইউরো সরকারি ট্যাক্স হিসেবে জমা দিয়ে এ আবেদন করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে কৃষিকাজ বা বাসাবাড়ির কাজে যোগদান সাপেক্ষে স্টে পারমিট পরিবর্তন করা যাবে বলে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, কৃষিকাজে নিয়োজিত ৩ লাখ এবং বাসাবাড়ির কাজে নিয়োজিত ২ লাখ অভিবাসী বৈধতা পাবেন। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, সংখ্যাটি নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কোয়ালিশন সরকারের দু’টি রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যার কথা জানিয়েছে। সবদিক বিবেচনা করার পর পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হবে।
এর আগে সবশেষ ২০১২ সালে ইতালিতে অনিয়মিতদের বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আট বছর পর আবার এ বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি রয়েছে ইতালিতে। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
কমিউনিটি নেতা ও ইতালি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবাল বলেন, ‘এটি ইতালিতে অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের জন্য বড় একটি সুযোগ। কোনোভাবেই এ সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।’
এক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারো মিথ্যা আশ্বাসে কর্ণপাত করবেন না। সংশ্লি¬ষ্ট মালিকের মাধ্যমে ৪০০ ইউরো জমা দিয়ে আবেদন করবেন। রোমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অনিয়মিত প্রবাসীসহ সব প্রবাসীর পাসপোর্ট সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি আবেদন দিন। যাতে কোনো প্রবাসী পাসপোর্ট নিয়ে জটিলতায় না পড়েন। সেইসঙ্গে অনিয়মিত হয়ে পড়া কোনো বাংলাদেশি যেন বৈধতার আবেদনের সুযোগ না হারান সেক্ষেত্রে দূতাবাসের সার্বিক সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানান হাসান ইকবাল।