বুধবার, ২৭ মে ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে জমজমাট ঈদ বাজার



সুবর্ণা হামিদ::
সরকারি নির্দেশনা থাকলেও করোনা সতর্কতার কারণে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সিলেট নগরীতে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানান। আর এই সুযোগে তাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অনলাইন ব্যবসায়ীরা চাঙা হয়ে উঠেছেন। জমে উঠেছে অনলাইনের মাধ্যমে তাদের বেচাকেনা। এ ব্যাপারে কয়েকজন অনলাইন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ হয়।
ক্লাসিক লেডি বাই অমাবস্যা (পষধংংরপ ষধফু নু ড়সধনড়ৎংযধ) অনলাইন পেইজ-এর ব্যবসায়ী অমাবস্যা চৌধুরী জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে আমার অনলাইনের ব্যবসা খুবই ভালো হচ্ছে। আমি কাজ করছি দেশি-বিদেশি কাপড় নিয়ে। বতর্মান পরিস্থিতিতে আমি শুধু দেশীয় কাতান জামদানি তাঁত, ব্লক-বুটিকস কাপড় বিক্রয় করছি। কাপড়ের পাশাপাশি আমি জুয়েলারি বিজনেসও করছি। গোল্ড প্লেট থেকে শুরু করে সি জেড স্টোনের গহনা আমার কালেকশানে আছে। আর এই পণ্যগুলো আমি আগে থেকেই আমার সংগ্রহে রেখেছি। যার ফলে আমি এখন ব্যবসা চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছি। আপনি কীভাবে এই ব্যবসা করছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এজেন্টের মাধ্যমে ব্যবসা করছি, আমার এজেন্টরাই আমাকে সহযোগিতা করছে। সিলেটের বাইরে সারা দেশে কাপড় বিক্রি করি। এছাড়া দেশের বাইরেও আমি নিয়মিত কাপড় পাঠাই। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা আর সম্ভব হচ্ছে না। আমার গ্রাহক যারা সিলেটের বাইরে আছেন তারা কাপড় পছন্দ করে সব টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন। আমি তাদের নাম-ঠিকানা ও ফোন নাম্বার লিখে রেখে দিয়েছি। পরিস্থিতি ঠিক হলে তাদের কাপড় ঠিকানা মতো পৌঁছে দেব। আর সিলেটের মধ্যে যেটা করছি, সেটা হলো আমার দুজন ডেলিভারিম্যান আছে, তারা প্রতিদিন সকালে আসে এবং ঠিকানা অনুযায়ী তা সকলের কাছে পৌঁছে দেয়।
তাদের নিরাপত্তা এবং আমার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমি তাদের গ্লাভস হ্যান্ড স্যানিটাইজার মাস্কসহ সব ধরনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
এ ব্যাপারে আরেক অনলাইন ব্যবসায়ী সুলতানা পারভীন জানান, আমার অনলাইন ব্যবসা (উধুুষরহম নু ঝযরষধ)
সব সময়ই চাঙা। তবে এই ঈদে এতটা হবে ভাবিনি। গত এক মাসে আমাদের যত পণ্য ছিল, তার মোটামুটি ৮০ ভাগ বিক্রি হয়ে গেছে। আর এর জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের সহযোগী ডেলিভারিম্যানদের, যারা এই খারাপ সময়ে আমাদের পাশে থেকে আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। তবে এই পণ্যগুলো হওয়া আগত লাভের সম্পূর্ণ টাকা অসহায়দের মাঝে দিয়ে দেব। এই প্ল্যান করেই আমরা এগুচ্ছিলাম কারন এই খারাপ সময়ে যে যেভাবে পারে সাহায্য করছে আর আমরাও একটি ছোট খাটো পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, সফল ও হয়েছি বলা চলে। সিলেটের মধ্যে এবং সিলেটের বাইরে আমি আমার প্রোডাক্ট ডেলিভারি খোলা রেখেছি, সিলেটের বাইরে এস.এ পরিবহণের মাধ্যমে আমার পণ্য পৌঁছে দিয়েছি,এবং সিলেটের মধ্যে আমার নিজস্ব ডেলিভারি ম্যান দিয়ে সিলেট শহর এবং তার আশে পাশে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকাগুলোতে আমি আমার পণ্য পৌঁছে দিয়েছি।
এ ব্যাপারে ট্রেন্ডি হাউজ (ঞৎবহফু ঐড়ঁংব)
অনলাইননের ব্যবসায়ী রুমানা মারিয়াম রুমু জানান-আমি কাজ করছি দেশি, ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি কাপড় নিয়ে ।
কাপড়ের পাশাপাশি আমার কালেকশনে কসমেটিক্স এবং মেকআপ প্রোডাক্ট আছে।
আমি সিলেট এর বাহিরে সারা দেশে কাপড় সেল দেই। আমার কাস্টমার যারা সিলেট এর শহরের মধ্যে তাদের আমি ভঁষষ পধংয ড়হ ফবষরাবৎু সার্ভিস দিচ্ছি। আর সিলেটের বাহিরের সব অর্ডারের ফুল পেমেন্ট অগ্রিম পরিশোধ এর পর আমি প্রোডাক্ট পাঠাই সুন্দরবন কুরিয়ার অথবা এস এ পরিবহনের মাধ্যমে।
আর সিলেট এর মধ্যে আমার ২ জন ডেলিভারি ম্যান আছে তারা প্রতিদিন সকালে আসে এবং ঠিকানা অনুযায়ী তা সকলের কাছে পৌঁছে দেয়। তাদের এবং আপনাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমি সব ধরনের ব্যাবস্থা করে দিয়েছি।
আমি পার্সেলগুলা ফুল ংধহরঃধরুবফ করে প্যাক করে রাইডার এর কাছে দেই। আলহমদুলিল­াহ আমরা সফল ভাবেই সব কাস্টমার দের সার্ভিস দিতে পারছি।
এই ভয়াবহ মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক সচেতন মানুষ ঘর থেকে বাহিরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না, অনেক সৌখিন মানুষ আবার ঈদের কেনাকাটা না করেও পারছেন না। তাই তারা ঘরে বসে অনলাইনে ঈদের কেনাকাটা শুরু করেছেন।
এ ব্যাপারে ক্রেতাদের সাথে কথা বললে আয়শা খানম জানান- এক বছর পরে একটা ঈদ আসে আর এই ঈদে আমরা সকলেই সবার সাধ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করি কিন্তু এই বছরই শুধু একটা ব্যাতিক্রম ঈদ সবার জীবনে। নগরীর সব শপিংমল বন্ধ।
কিছু কেনাকাটার কোন উপায় নেই, কেউই জীবনের ঝুঁকি নিতে চাইবেনা। তাই অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে নিজের পছন্দ মত জিনিস কেনার ভালো সুযোগ আছে আর আমি সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছি। অনলাইনে কেনাকাটা করা খুবই সহজ এবং দামও তেমন একটা বেশি মনে হয় না। আর আমি নিরাপত্তার কথা ভেবে হাতে গ্লাভস ব্যবহার করি।
অনলাইনে কেনাকাটার মাধ্যমে সুবিধা যেমন আছে তেমনই আছে ধোঁকা খাওয়ারও সম্ভবনা এ ব্যাপারে আরেক ক্রেতা ছুমাইয়া আক্তার জানান- আমি গত কয়েক দিন আগে অনলাইনের মাধ্যমে একটি পোশাক কিনেছিলাম কিন্তু খোলার পরে দেখি আমি যেটা চেয়েছিলাম সেটা পাঠায়নি, এটা অন্য আরেকটা। তাই অনলাইন থেকে কিনার সাহস পাইনা। আবার মনে হয় সব সময় হয়তো এমন হবেনা। কিন্তু এই মুহূর্তে অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটা করা ছাড়া আর কোন উপায়ও নেই।
শপিংমল থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় নগরীর সবকটি মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দোকান মালিক সমিতি। আর সেই জন্য নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে ঈদের কেনাকাটা করছেন অনেকেই, একটা কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে গোটা পৃথিবীর মানুষকে। এই পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হবে, স্বাভাবিক হবে মানুষের জীবন মান এই প্রতাশ্যা সকলের।