বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে আতঙ্কিত পথচারীরা



সিলেট অফিস::
সিলেটে করোনা মহামারির গ্রাফটা এখন ঊর্ধ্বমুখী। আর এই উড্ডয়ন কোথায় গিয়ে থামবে তা আমরা অনুমান করতে পারলেও নিন্ডিত হওয়া যাচ্ছে না। সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা শীর্ষে সিলেট। পিছু ছাড়ছেনা আতঙ্ক। কমিউিনিটি ট্রান্সমিশনের কুপ্রভাবে সিলেট অঞ্চলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে,। এ দিকে সন্ধ্যার পর দিনের বেলাতেও নগরীতে কুকুরের আনাগোনায় পথ চলা মুশকিল। সন্ধ্যার নামার পর পাড়ামহল্ল¬ার পয়েন্টে পয়েন্টে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বাড়তে থাকে।
সিলেট নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন লোকজন। বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে মানুষের চলাফেরা দুরূহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পাড়ামহল্ল¬ার পয়েন্টে পয়েন্টে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বাড়তে থাকায় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
কুকুরের উৎপাতের কারণে ক্লিনিকে মেডিক্যালে কর্মরত ডাক্টার, নার্স, কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে কুকুরের কামড়ের ভয়ে অনেকের মাঝে বেওয়ারিশ কুকুর দেখলেই ভয় আর আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, কুকুরের উৎপাতে লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও এ নিয়ে সংশ্লি¬ষ্টদের কোনো পদক্ষেপ নেই।
গতকাল সন্ধ্যার পর নগরীর লামাবাজার পয়েন্টে মোটরসাইকেল দুইজন পথচারীকে ৬/৭টি কুকুর তাড়াকরে প্রাণে বাঁচতে ওরা দুজন মোটরসাইকেল ফেলে রেখেই পাশের একটা বাসার দেওয়াল টপকিয়ে আশ্রয় নেয়।
এরকম নগরীতে বিভিন্ন ঘটনা দিনদিন ঘটছে। করোনায় শহরের হোটেল রেস্তোরাঁ গুলো বন্ধ থাকায় উচ্ছিষ্ট খাবার না থাকায় কুকুরগুলো খাদ্যের অভাবে পাগলা কুকুরে পরিণত হয়েছে। এমনটা মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন স‚ত্র বলেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে বর্তমানে কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে। গেল ৩’বছর ধরে কুকুর নিধন না হওয়ায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরীর পাঠানটুলা, করের পাড়া, মদীনা মার্কেট, দরগাহ মহল্ল¬া, রাজারগলি, আম্বরখানা, জালালাবাদ আবাসিক এলাকা, সুবিদবাজার, বাগবাড়ী, ওসমানী মেডিকেল এলাকা, জিন্দাবাজার, হাওয়াপাড়া, তাঁতীপাড়া, দাঁড়িয়াপাড়া, চৌহাট্টা, বন্দরবাজার, বারুতখানা, মিরাবাজার, শেখঘাট, মুন্সীপাড়া, রিকাবীবাজার, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, কাজীটুলা, ইলেকট্রিক সাপ্ল¬াইসহ বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে এ প্রতিবেদক কে লোকজন বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবের কথা জানিয়েছেন।
করেরপাড়ার এলাকার নিলয় দেব নাথ জানান, গত ক’দিন আগে তাকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধক ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে কুকুরের কামড়ে ।
এ প্রসঙ্গে নগরীর মাছুদিঘিরপারের জাফর খান জানান, কুকুরের উৎপাতের কারণে আতঙ্কিত অবস্থায় ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যেতে হয়। তিনি এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সিটি কর্পোরেশনের দ্রæত পদক্ষেপ কামনা করেন।
সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশের ফলে ২০১৬ সাল থেকে কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে। কুকুরের উৎপাত নিয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না বলে জানান। তবে, তিনি দাবি করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট জেলায় ১৩ হাজার কুকুরকে ভেক্সিনেশনের আওতায় আনা হয়েছে।