শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক নির্যাতন ও প্রেসক্লাবের ভূমিকা



সা¤প্রতিক সময়ে সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কখনো ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের নেতা, কখনো আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা এ নির্যাতন হচ্ছে। দেশে অনিয়ম দূর্নীতির সাথে সাংবাদিক নির্যাতন সমান্তরাল ভাবে চলে। এর কারণ কি? দেশে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা না থাকায় লুটেরা ও অনিয়মকারীরা সাংবাদিকদের একমাত্র প্রতিপক্ষ ভাবে। বিশেষকরে মফস্বলে সাংবাদিক নির্যাতনের নগ্ন রূপ দেখা যায়। আমরা অনেকেই ভাবতে পারি না, মফস্বলের সাংবাদিকদের কতটা বৈরী পরিবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। অপ্রিয় সত্য না লিখলে কোনো সমস্যা নেই। এ ধরনের অনুগত সাংবাদিকদের ক্ষমতাশালীরা খুবই পছন্দ করে। ইনাম বকশিস দেন। কিন্তু সত্য কথা লিখলেই নেমে আসে চাপ, হুমকি, মামলা, জেল ও শারীরিক নির্যাতন। স¤প্রতি এরূপ মামলায় জেল খাটছেন ‘আজকের হবিগঞ্জ’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সুশান্ত দাস গুপ্ত। এখানে স্থানীয় প্রেসক্লাব পেশাজীবি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় সারা দেশে সাংবাদিক সমাজের মাঝে বিস্ময়ের উদ্রেক হয়েছে। এজন্যই সাংবাদিক সমাজে দ্বিধা বিভক্তি দেখা যায়। দেখা দেয় বিকল্প প্রেসক্লাব গঠনের।
বিকল্প প্রেসক্লাব গঠনের কেন প্রয়োজন? সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সাংবাদিকতা পেশাটি মহান হলেও মারাত্মক চ্যালেঞ্জিং। বিভিন্ন দেশের গনমাধ্যমগুলো তাদের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। সাংবাদিকতার সংজ্ঞা দিতে গেলে তা ব্যাপক।
উইকিপিডিয়ার মতে, সাংবাদিকতা হল বিভিন্ন ঘটনাবলী, বিষয়, ধারণা ও মানুষ সম্পর্কিত প্রতিবেদন তৈরি ও পরিবেশন, যা উক্ত দিনের প্রধান সংবাদ এবং তা সমাজে প্রভাব বিস্তার করে। এই পেশায় শব্দটি দিয়ে তথ্য সংগ্রহের কৌশল ও সাহিত্যিক উপায় অবলম্বনকে বোঝায়। মুদ্রিত, টেলিভিশন, বেতার, ইন্টারনেট এবং পূর্বে ব্যবহৃত নিউজরিল সংবাদ মাধ্যমের অন্তর্গত। সাংবাদিকতার যথোপযুক্ত নিয়মের ধারণা ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কিছু দেশে সংবাদ মাধ্যমে সরকারি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং পুরোপুরি স্বাধীন সত্তা নয়।
অন্যান্য দেশে, সংবাদ মাধ্যম সরকার থেকে স্বাধীন কিন্তু লাভ-লোকসান সাংবিধানিক নিরাপত্তার আওতায় থাকে। স্বাধীন ও প্রতিযোগিতামূলক সাংবাদিকতার মাধ্যমে সংগ্রহ করার মুক্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে প্রবেশাধিকার জনগণকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে সাহায্য করে।
সাংবাদিকরা জাতির বিবেক, সমাজের দর্পণ। জনমত সৃষ্টিতে সাংবাদিকরা কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের দেশের সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকগণ আজ দ্বিধাবিভক্ত। প্রতিনিয়তই দেশের সাংবাদিক সমাজ হামলা, মামলা ও দলাদলির শিকার হচ্ছে। আজ এ সাংবাদিক নির্যাতিত হচ্ছে, কাল আরেক সাংবাদিক নির্যাতিত হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজকে আজ দলে দলে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখা যাচ্ছে। তা স্বত্তে¡ও থেমে নেই সাংবাদিক নির্যাতন। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা শক্তির কাছে নির্যাতিত হচ্ছে। এসব নির্যাতন থেকে রেহায় পাবার জন্যই সা ংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং গড়ে তোলেছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
আমাদের দেশের প্রত্যেক জেলায় প্রেসক্লাব রয়েছে। এটি সাংবাদিকদের সামাজিক মিলনকেন্দ্র। যা সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি প্রতিষ্ঠান।
কেনই আজ সাংবাদিক সমাজ দ্বিধাবিভক্ত? সাংবাদিক সমাজ একই পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ না হয়ে কেনই তারা আলাদাভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হচ্ছে?
আমি প্রত্যেক সাংবাদিককে অনুরোধ করবো সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করুন। একজন সাংবাদিক আরেকজন সাংবাদিককে সহকর্মী বা ভাই ভাবুন। সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। তাহলেই আমাদের সাংবাদিক সমাজকে হেয় করার সাহস কারো হবে না।