শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চরম সংকটে ১২ লাখ শিক্ষক



সালাম মশরুর ::
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০/১২ লক্ষ শিক্ষক চরম সংকটে রয়েছেন। স্কুল ও টিউশনি বন্ধ। ৩১ মে থেকে দেশের অফিস আদালত খোলার ঘোষণা হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহসা খুলছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার অনিশ্চিত এই যাত্রায় শিক্ষা ক্ষেত্রে হতাশা বাড়ছে। মানুষ গড়ার কারিগর এই শিক্ষক সমাজের দুঃসময়ে তাদের প্রতি হাত বাড়ানো প্রয়োজন। করোনা ভাইরাসের আক্রমনে সারা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের উপরও। প্রায় আড়াই মাসে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়েছে জীবন যাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে। ব্যবসা-বাণিজ্য উৎপাদন বিপণন সব কিছুই মুখ থুবড়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে সকল কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুলগুলো।
সরকারিভাবে বিভিন্ন পেশার মানুষকে বিভিন্নভাবে সাহায্য প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে গড়ে উঠা বেসরকারি পর্যায়ের এই ব্যবস্থার সাথে জড়িত প্রায় ১২ লাখ শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীরা কোনো প্রকার সুবিধা পাননি। করোনাকালীন সংকটে তাদের জীবন ব্যবস্থা এখন চরম সংকটের মুখে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এই ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম না থাকায় সংকটের মুখে পড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। প্রায় ৯৯ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলছে ভাড়া করা বাড়িতে। বর্তমান সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়িভাড়া নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তাতে দেনার দায়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশে প্রায় ৬৫হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এর সাথে জড়িত রয়েছেন প্রায় ১০/১২ লাখ শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সিলেটে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৩শ। এর সাথে জড়িত রয়েছেন প্রায় ৩ হাজারের অধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে জড়িত রয়েছে দেশের বিশাল শিক্ষিত এই জনগোষ্ঠী। কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে শিক্ষকতার পাশাপাশি তারা টিউশনি করে টাকা উপার্জন করেই জীবিকানির্বাহ করছেন। আর্থিক সংকটের কারণে পড়ালেখার শেষ দাপে এসে অনেককেই টিউশনির উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। অনার্স, মাস্টার্স শেষ করে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি এই সময়ে অনেকে স্কুলে শিক্ষকতা ও টিউশনি করে নিজের চলার পথ তৈরি করেন। চাকুরি খোঁজার পথ ধরেই এক সময় বয়সের সময় শেষ হয়ে যায়। প্রত্যাশিত চাকুরি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনেকে শিক্ষকতাকে পেশা হিসাবেই বেছে নেন। এক্ষেত্রে অনেকেই নিবন্ধন পরীক্ষা সম্পূর্ণ করার কারণে সরকারি স্কুলেও চাকুরির সুযোগ পাচ্ছেন।
গত ১৫ বছরে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষা পরিচালনার ক্ষেতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো যে মেজাজে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছিল, পরবর্তী পর্যায়ে সেক্ষেত্রে অনেকটা পরিবর্তন আসে।
অনুসন্ধানে দেখা যায় দেখা যায়, সময়ের ব্যবধানে নগর ছাড়িয়ে উপজেলা পর্যায়েও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কার্যক্রম বিস্তৃতি লাভ করছে। এক সময় কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শুধু বিত্তশালীদের ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করতো, এমনটাই প্রচলিত ছিল। কিন্ত সময়ের প্রয়োজন ও ব্যবধানে এই বিষয়টি এখন এই জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়। আজকাল কিন্ডারগার্টেন স্কুলে অতি সাধারণ ঘরের সন্তানরাও পড়াশোনা করছে। এমপিওভুক্ত স্কুলগুলোতে যে হারে ভর্তি ফি, বেতন আদায় করা হচ্ছে, অনেক কিন্ডারগার্টেন স্কুলে সেই পরিমাণ ফি আদায় করছে। বিভিন্ন স্থানে সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীরা নগরীর অনেক কিন্ডারগার্টেন স্কুলে নামমাত্র ভর্তি ফি দিয়ে ভর্তির সুযোগও পাচ্ছে। অনেক কিন্ডারগার্টেন স্কুলে নানান কারণে সাধারণ পরিবারের অভিভাবকরা সময় মতো ছেলে-মেয়েদের বেতন পরিশোধ না করেও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন।
সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত গোল্ডেন স্টার প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুলের পরিচালক আব্দুল আজিজ জানান, দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে তাদের বর্তমানে স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম চলছে। দেড়’শ টাকা থেকে আড়াই’শ টাকা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন থাকলেও অনেকেই তা নিয়মিত পরিশোধ করতে পারে না। এখানে চা বাগান শ্রমিকের সন্তানরাও স্বল্প বেতনে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে। করোনাকালের এই সময়ে মহা সংকটে পড়েছে এই প্রতিষ্ঠান। তিন মাসের বাড়ি ভাড়া বাকী। এই কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
নিজেদের সংকটের কথা তুলে ধরে সৈয়দ নাসির উদ্দিন (র.) কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুলের পরিচালক মাসুক আহমদ বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি সুবিধাবঞ্চিত হয়েও দেশের শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে ও নতুন প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষার বড় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
নগরীর মজুমদারি থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি ও হাইস্কুল ২টি, সে সাথে কিন্ডারগার্টেন রয়েছে ১১টি। সরকারি ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা যত ঠিক ততটা শিক্ষার্থী রয়েছে এই কিন্ডারগার্টেনগুলোতে। এ প্রসঙ্গে খাসদবির সরকারি জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হুসেইন আহমদ জানান তার স্কুলে প্রায় ১৪শ শিক্ষার্থী রয়েছে। স্থান সংকুলান হয় না। ছাত্রছাত্রীরা গাদাগাদি করে বসে। এখানে ১হাজার শিক্ষার্থীর অ্যাকোমডেশন থাকলেও শিক্ষার্থীর চাপের কারণে অধিক সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ভর্তি দিতে বাধ্য হতে হয়। অতিরিক্ত চাপ থাকায় সঙ্গত কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়কেই সমস্যা পোহাতে হয়। এই এলাকায় ১১টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করছে। কিন্ডারগার্টেন স্কুল না হলে এই এলাকায় সরকারি স্কুলে স্থান না পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিপাকে পড়তে হতো।
মজুমদারি দীপ শিখা প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুলের শিক্ষক নিরঞ্জন রায় ও তার স্ত্রী কাকলী রায় জানান, তারা প্রায় ১০ বছর যাবত এখানে শিক্ষকতা করছেন। তাদের ২টি মেয়ে নবম ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। শিক্ষকতা করেই তাদের বাসা ভাড়া ও সংসার চলে। আয়ের অন্য কোনো উৎস নেই। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ, টিউশনিও বন্ধ। তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
স্কুলশিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান রকি জানান, অনার্স এলএলবি সম্পন্ন করেছেন, সনদ পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। পড়াশোনার এই পর্বে নিজে শিক্ষকতা ও টিউশনি করে চলছেন। পিতা সরকারি চাকুরি থেকে অবসর নিয়েছেন অনেক আগে। পরিবারের উপর দায় চাপানোর সুযোগ নেই। নিজেকে উপার্জন করেই চলতে হচ্ছে। করোনার কারণে ঠিক এই মুহূর্তে কঠিন সমস্যায় আক্রান্ত হতে হয়েছে। একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক মো. আলী জামিল বিবিএ ও এমবিএ (ম্যানেজমেন্ট) করেছেন। তিনি বললেন, লেখাপড়া শেষ করে চাকুরির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু কোথাও সুবিধা হচ্ছেনা। এখন শিক্ষকতা করেই নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে। প্রতি মাসে যা পাওয়া যায় তাতে এমনিতেই মাস চলে না। বর্তমানে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের দাড়ানোর জায়গা নেই।
সিলেট নগরীতে ইংলিশ মিডিয়াম ৪-৫টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। যেখানে ২০-২৫ হাজার টাকা ভর্তিফি ও ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে ছাত্রছাত্রীরা পড়ালেখা করছে। তবে অধিকাংশ স্কুলে ২শ থেকে ৫শ টাকা বেতন রয়েছে। পড়াশোনার মান বিচারে সরকারি স্কুল থেকে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছে। জেলার পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এলাকার শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীই কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসছেন।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে ৭৮টি। গোলাপগঞ্জ স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজামিল চন্দ্র নাথ জানান, করোনার কারণে প্রতিটি স্কুলের শিক্ষকরা যেমন সমস্যা পোহাচ্ছেন তেমনি স্কুল কর্তৃপক্ষ বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য খরচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারী বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর ভাবে জীবনযাপন করছেন। পারছে না তারা কারো কাছে হাত পাততে বা সাহায্য চাইতে। এবছরে ১৭ মার্চ হতে সরকারি ঘোষণার মধ্য দিয়ে বন্ধ হওয়া এসকল স্কুলগুলো শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়িতে বসে বেকার জীবনযাপন করছেন। একই সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের বেতন-ভাতা যথানিয়মে পেয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে সময়োপযোগী এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে এবং কিছুটা হলেও দেশের বেকার সমস্যা দূরীকরণে ভূমিকা পালন করছে। কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো কখনই কোনো সরকারি অনুদান পায় না এবং পাওয়ার জন্য আবেদনও করে না। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পুরো বিশ্ব যখন দিশেহারা, দেশের অর্থনীতির টালামটাল অবস্থা। ঠিক এই দুঃসময় বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক প্রণোদনা চেয়ে আবেদন করেছে।
করোনা ভাইরাস ঘিরে দেশের সকল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের মতো বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরাও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক স্বল্প বেতন ও প্রাইভেট টিউশনির উপর নির্ভর করে জীবিকানির্বাহ করেন। কিন্তু মহামারির কারণে তাদের প্রাইভেট টিউশনি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। অধিকাংশ স্কুলই তাদের বেতন পরিশোধ করতে পারছে না। একারণে অনেকের পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। শিক্ষকরা না পাচ্ছেন স্কুলের বেতন, না পাচ্ছেন টিউশনির বেতন। নিদারুণ অর্থসংকটে পড়া এই বিশাল জনগোষ্ঠী এখন চোখে অন্ধকার দেখছে। অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার বেসরকারি স্কুল।
কেজি স্কুলের উদ্যোক্তার সাথে আলাপকালে তারা জানান, করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে ৫ দফায় ছুটি বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জুনের আগে আর খুলছে না কিন্ডারগার্টেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। জুন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাস ছুটিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০ লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও দেড় লাখ কর্মচারীর অর্থনৈতিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপনের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। এ দীর্ঘ ছুটিতে টিউশন-ফিনির্ভর এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এক নিদারুণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে।
দেশে এসব ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে দেশের মোট শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ লেখাপড়া করে। প্লে থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের বন্ধের সময়ও সরকারের সাথে সংগতি রেখে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান বেশিরভাগ ভাড়া বাড়িতে এবং শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতনের উপর নির্ভরশীল। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে ফি পাওয়া যায়, মাসিক আয়ের ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া, কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মচারীদের বেতনভাতা ৪০ শতাংশ এবং ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট, অনুষ্ঠানাদি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হয়।
একাধিক শিক্ষক জানান, এর আগেও হরতাল-অবরোধসহ নানা কারণে দিনের পর দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থেকেছে। তখন শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রাইভেট-পড়তো। এখন সেই সুযোগ নেই। তাই শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে পড়ছে। গত ২৯ মার্চ থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পাঠদান সংসদ টেলিভিশন সম্প্রচার করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। আর গত ৭ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের ক্লাসও সম্প্রচার করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। কিন্তু এই পাঠদান পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে পারছে না। ২০ মিনিটের এই পাঠদানে শিক্ষকের একপক্ষীয় আলোচনায় আগ্রহ পাচ্ছেনা শিক্ষার্থীরা। বর্তমান সময়ে শুধু শহর কেন্দ্রিক শিক্ষার্থীদের পাঠদানের কথা না ভেবে সুবিধাবঞ্চিত শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ব্যাপরেও সমান গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদের মহাসচিব মো. শাহীন পারভেজ জানান, বর্তমান করোনা সংকটে নিজেদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে আর্থিক সহায়তা চেয়ে গত ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। তিনি জানান, সময় যত যাচ্ছে সংকট তত ঘণীভ‚ত হচ্ছে। প্রতিদিন চাহিদা তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন সদস্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকরা তাদের কাছে সমস্যার কথা তুলে ধরছেন। আমাদের অসহায়ত্বই আমাদের পীড়া দিচ্ছে।