শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবো না : প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ রিপোর্টার::
করোনা পরিস্থিতিরি উন্নতি হলে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমরা এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবো না। রোববার (৩১ মে) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশকালে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল নেতৃত্বে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট হতে ফেসবুক লাইভে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ফল প্রকাশকালে এই মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যত এবং সরকার তাদের ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না।
তিনি বলেন, আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলছি না, কারণ আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই যাতে তারা (শিক্ষার্থীরা) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এখনই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলব না। যদি আমরা এই (করোনাভাইরাস) পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারি তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে খুলবো। শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট না করে ঘরে বসে পড়াশোনা করার অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে অনুরোধ করবো সবাই যেন ঘরে বসে পড়াশোনা করে। এটা একটা পড়াশোনার ভালো সুযোগও। আমরা নিজেরাও, এখন বেশি কাজ নেই- অনেক কিছু জানার, পড়ার সুযোগ পাচ্ছি। সেটাও কম কথা না। এখানে আমি বলবো সবাই মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে। দেশে উদ্বুদ্ধ হয়ে লেখাপড়া করে নিজেদের তৈরি করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহŸান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারের মর্যাীদার আসনে অধিষ্ঠিত করবে। সেটাই আমি চাই।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ করবো তারা লেখাপড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। শিক্ষকদের বলবো তাদের সেই শিক্ষাই দেবেন এই শিক্ষাটা হচ্ছে শুধু নিজে ভালো থাকা না, দেশের কল্যাণে কাজ করা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা। যেটা জাতির পিতা আমাদের বার বার শিখিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষের কল্যাণ্যেই যেন তারা নিবেদিত প্রাণ হয় সেই শিক্ষাই তারা যেন গ্রহণ করে। যে দেশকে ভালোবাসা, মানুষকে ভালোবাসা, মানুষের প্রতি কর্তব্যপালন করা।
বর্তমান পরিস্থিতিকে পুরো বিশ্বের জন্য সঙ্কট উল্লেখ করে সকলকে আত্মবিশ্বাস রাখার আহŸান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় বিষয়। পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন আমাদেরকে তার মুখোমুখি হতে হবে।
করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই দেশ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘূর্ণিঝড়সহ সকল সংকটের মুখোমুখি হব এবং একসাথে কাজ করব এখন যেমন করছি।
সরকারপ্রধান বলেন, একসাথে কাজ করে দেশ করোনাভাইরাস মহামারি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। এটিই লক্ষ্য এবং এটিই সরকারের সিদ্ধান্ত।
শাটডাউন শিথিল করার বিষয়ে তিনি বলেন, সবকিছু দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। অন্যান্য দেশ পর্যায়ক্রমে তাদের অর্থনীতির চাকা খুলছে।
এ প্রসঙ্গে জনগণের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ এবং খাদ্য ও আর্থিক সহায়তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি না বিশ্বের আর কোনো দেশ এতো বিপুল পরিমাণ (এর জিডিপির সমান) প্রণোদনা প্যাকেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে কিনা।
এসময় গণভবন প্রান্তে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।