বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তালের অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা



গ্রামে গাছে গাছে এখন পাকা তাল। শহরেও সহজলভ্য এই মৌসুমী ফল। বাঙালির পছন্দের খাবারের একটি তাল। পাকা তালের রস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু পিঠা পছন্দে বেশিরভাগ বাঙালির। তবে স্বাদের পাশাপাশি তালের স্বাস্থ্যগুণও অনেক। চলুন তালের স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে জেনে নিই-
তালের রস থেকে তাল মিছরি, গুড়, চিনি, ভিনেগার প্রস্তুত হয়ে থাকে৷ মূলত ভাদ্র আশ্বিন মাসই তাল খাওয়ার সময়৷ তালের রসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স রয়েছে৷ ভিটামিন বি-এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধে তাল ভূমিকা রাখে। তালের রসে কৃমির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷
তাল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণসমৃদ্ধ হওয়ায় ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। এ ছাড়া স্বাস্থ্য রক্ষায়ও তাল ভূমিকা রাখে। স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
তালে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে, যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক। কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের রোগ ভালো করতে তাল ভাল ভূমিকা রাখে।
পাকা তাল যেভাবে খাওয়া যায়
তালসত্ব- তালের রস ও চিনি দিয়ে বানানো হয় তালসত্ব। এটি রোদে শুকিয়ে সারাবছর খাওয়া যায়। অনেকে ভাত ও দুধের সঙ্গে এই তালসত্ব খেয়ে থাকেন।
তালের জুস- তালের রস, দুধ, চিনি দিয়ে জুস বানানো যায়। তেল যেহেতু ভাদ্র মাসে পাকে, সেই সময়ের গরমে এই জুস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
তালের পিঠা- তালের ঘন নির্যাসের সঙ্গে ডিম, চালের গুঁড়া, গুড় বা চিনি এবং কখনো নারিকেল দিয়ে তালের পিঠা তৈরি করা হয়। গ্রামগঞ্জে এই পিঠার ঐতিহ্য রয়েছে। তালের পিঠার সুন্দর একটি ফ্লেভার রয়েছে।
তালের কেক- কেকের সব উপকরণের সঙ্গে তালের রস মিশিয়ে কেক বানানো হয়। এর রং খুবই আকর্ষণীয় হয়। তালের কেকের মধ্যে চিনি কম এবং ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য ভালো খাবার হতে পারে।