বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ওসমানী হাসপাতালের রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে তদন্তে দুদক



পূবের হাওয়া ডেস্ক :::
দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়ে পড়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নিজেদের আখের গোছাতে নানা অনিয়মে যুক্ত হয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। আর কর্মকর্তাভেদে লাখ টাকা কোটি টাকায় রূপান্তরিত হয়। দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন শাখায় খুঁটি গেড়ে থাকা এ সকল অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারিরা বহাল থাকলেও দায়িত্বশীলদের রদবদলের কারণে কোনো প্রভাব পড়ে না। ফলে বেপরোয়া হয়ে বিলাসী জীবনযাপন করছেন অনেকেই।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের পিএ টু হিসেবে এক যুগের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন মো. রুহুল আমিন। এ সময়ের মধ্যে অনেক পরিচালক বদলী হলে রুহুল আমিন নিজের জায়গায় বহাল রয়েছেন। আর এই রুহুল আমিনের কর্মজীবনের নানা অনিয়ম আর নামে বেনামে কিংবা আত্মীয় স্বজনদের সাথে যৌথভাবে গড়ে তোলা সম্পত্তির অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন, সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয়। এছাড়াও রুহুল আমিনের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের ফাইলও অনুসন্ধানের আওতায় আসবে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে দুদক কার্যালয়ে রুহুল আমিনসহ অন্যরা তদন্ত কর্মকর্তার হাজির হয়েছেন।
একটি সূত্র জানায়, আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হয়ে দুদকের চাহিদা অনুযায়ী নানা তথ্য সরবরাহ করেছেন তারা। এছাড়া তদন্তের অংশ হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
ওসমানী হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, পরিচালকের পিএটু হওয়ার কারণে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে হাসপাতালের বিভিন্ন শাখায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। লম্বা সময় একই স্থানে কাজ করা, স্থানীয় বাসিন্দা হওয়া এবং প্রভাবশালী আত্মীয় স্বজনের কারণে সরকারি চাকুরী করেও পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত রুহুল আমিন। ফার্মেসী ব্যবসা, বেনামে গাড়ির ব্যবসা, গ্রোসারি সপ, আত্মীয়দের দিয়ে হাসপাতালের লন্ড্রি দখল, ইমার্জেন্সি গেটে ফলের দোকানসহ বিভিন্ন দোকান ভাড়া, হাসপাতালের টয়লেট নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।
সিলেট নগরীর সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে রুহুল আমিন, তার খালাতো ভাই আব্দুল খালিক লাবলু ও আবদুর রকিব বাবলুর বিরুদ্ধে দুদকসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ নাগরিকরা।
বিভিন্ন অভিযোগ বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে রুহুল আমিন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেইটের সামনে একটি ফলের দোকান দৈনিক ১ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছেন। একই স্থানে একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকান দৈনিক এক হাজার টাকা, ওান দোকান এক হাজার টাকা এবং মোবাইল এক্সেসরিজের একটি দোকান থেকে দৈনিক ৮০০ টাকা ভাড়া আদায় করেন। এছাড়া ইমার্জেন্সী গেটে ব্যাংকের বুথ হিসেবে বরাদ্দ কক্ষে রুহুল আমিনের খালাতো ভাই লাবলুর মাধ্যমে গ্রোসারি দোকান থেকে দৈনিক বড় অংকের ভাড়া আদায় করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ সানমুন কোম্পানির দায়িত্ব পালন কালে রুহুল আমিন বেশ প্রভাব খাটিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করেছেন। বর্তমানে জনবল সরবরাহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেও রুহুল আমিনের দেওয়া অনেক লোক কাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে হাসপাতাল গেটের রবিন ফার্মেসীর কাগজপত্রে মালিক রুহুল আমিনের ভাই। এ ফার্মেসী নিয়ে ভূক্তভাগীদের অভিযোগের অন্ত নেই। হাসপাতালের চোরাই ঔষধ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আর এ ঔষধের যোগানদাতা হিসেবে অনেকের কাছে রুহুল আমিনের নাম শোনা যায়। অভিযোগ রয়েছে রুহুল আমিনের লোকজন হাসপাতালের নির্দ্দিষ্ট ওয়ার্ড থেকে ঔষধ সংগ্রহ করে ফার্মেসীতে পৌঁছে দেয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অন্তত ২১টি অভিযোগ করা হয়েছে সরকারের বিভিন্ন দফতরে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিএটু পরিচালক রুহুল আমিন। দৈনিক সবুজ সিলেটকে তিনি বলেন, খালাতো ভাই বাবলু ও লাভলুর সাথে বিরোধের জের ধরে কে বা কারা দুদকে অভিযোগ করেছে। অভিযোগে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। দুদক তদন্ত করছে। তারা নোটিশ দিলে আমি হাজির হয়ে আমার স্বপক্ষে যে সকল কাগজপত্র রয়েছে, তা দাখিল করেছি। তিনি বলেন, অফিস সহকারী হিসেবে যোগদানের পর প্রমোশন পেয়ে এ অবস্থানে তিনি এসেছেন। নিজের দুর্নীতির কোনো খতিয়ান নেই দাবি করে বলেন, ২৪ বছর ধরে ওসমানী হাসপাতালে রয়েছি। অনেকের সাথে আমার সুসম্পর্ক আছে। চাকুরীতে যোগদানের আগে সাংবাদিকতাও করেছি। তিনি বলেন, বিল্ডিং নির্মান, ভাইয়ের ফার্মেসীতে চোরাই ঔষধ বিক্রি, গাড়ি-বাড়ির অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার নিজের একটা মোটর সাইকেলও নেই বলে জানান তিনি।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় দৈনিক সবুজ সিলেটকে বলেন, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পত্তি অর্জনসহ নানা অভিযোগে দুদক তদন্ত করছে। দুদক কর্মকর্তারা আমাদের সাথেও কথা বলেছেন। অভিযোগ সত্য হলে কারো ব্যক্তিগত কর্মের দায়ভার কর্তৃপক্ষ নেবে না।

  •