বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ছাতকে শশুর কর্তৃক ধর্ষণের চেষ্টা, বাধা দেয়ায় ঘরছাড়া পুত্রবধূূ



ছাতক প্রতিনিধি :::
ছাতকে শশুর কর্তৃক জোরপূর্বক ধর্ষনে বাধা দিয়ে বিপাকে পড়েছে এক গৃহবধূ। স্বামী-শশুবের নির্যাতনে ঘরছাড়া এ গৃহবধূ এখন বিচার চেয়ে দ্বারে-দ্বারে ঘুরছে। এদিকে ঘটনা ধামাচাপ দিতে ব্যর্থ হয়ে লম্পট শশুর বর্তমানে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি মঙ্গলবার ছাতক থানায় উপস্থিত হয়ে ওসিকে মৌখিকভাবে অবহিত করেন নির্যাতিত গৃহবধূর পিতা জালাল মিয়া। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩ এপ্রিল রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াকোট গ্রামে। জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের লম্বাকান্দি গ্রামের জালাল মিয়ার কন্যার সাথে ছাতকের নোয়াকোট গ্রামের আব্দুস ছালামের পুত্র সালেহ আহমদের বিয়ে হয় ২০১৮ সালে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবীতে প্রায়ই ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করতো শশুর বাড়ীর লোকজন। এর মধ্যে ভিকটিম প্রিত্রালয় থেকে ৫০হাজার টাকা এনে দিতে হয়েছে স্বামী-শশুরকে। দিনমজুর হওয়ায় ঘটনার দিন সকালে কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে যায় তার স্বামী। এ সুযোগে ওই রাতে ঘুমন্ত পুত্রবধূকে ঝাপটে ধরে লম্পট শশুর আব্দুস ছালাম। টানা-হেছরা ও ধস্তা-ধস্তির এক পর্যায়ে নিজেকে মুক্ত করে সতীত্ব রক্ষায় গৃহবধূ চিৎকার করলে লম্পট শশুর তার কক্ষে ত্যাগ করে চলে যায়। বিষয়টি রাতেই তার শাশুরী মাকে অবহিত করে পুত্রবধূ। কিন্তু বিচার না করে এ ঘটনা কাউক না বলার জন্য তাকে চাপ সৃষ্টি করে শশুর-শাশুরী। সকালে পাশের বাড়ির বাসিন্দা আপন খালু আব্দুল মান্নাকে ঘটনাটি অবহিত করে ভিকটিম। খবর পেয়ে তার স্বামী সালেহ আহমদ বাড়িতে এসে উল্টো স্ত্রীকে দায়ী তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার এলাকায় সালিশ-বৈঠক হলেও লম্পট শশুর আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে কোন সামাজিক ব্যবস্থা নিতে পারেনি সালিশকারীরা। বর্তমানে বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত ভিকটিম গৃহবধূ পিত্রালয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। অবশেষে নিরুপায় হয়ে গত ২৭ এপ্রিল বিচার চেয়ে ভিকটিম মানবাধিকার সংস্থা আসক’র বিভাগীয় পরিচালক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থা আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছে ভিকটিমকে। ভিকটিমের পাশের বাড়ির জহুরা খাতুন ও মুসলিম উদ্দিন জানান, ভিকটিমের কাছ থেকে তারা এ বিষয়টি জেনেছেন। এ নিয়ে এলাকায় সালিশও হয়েছে। লজ্জায় বাড়ি-ঘর ছেড়ে শশুর-শাশুরী অন্যত্র চলে গেছে। ভিকটিমের পিতা জালাল উদ্দিন জানান, জায়গা-জমি বিক্রি করে মাতৃহারা তার এ মেয়েটিকে সুখের আসায় বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু লম্পট শশুর মেয়েটি সুখ কেড়ে নিয়ে ঘরছাড়া করেছে। তিনি লম্পট আব্দুস ছালামের দৃষ্টান্তমুলুক শাস্তির দাবী জানান। গাংপার-নোয়াকোট গ্রামের বাসিন্দা সালিশকারী আব্দুল জব্বার খোকন জানান, এটি একটি নেক্কারজনক ঘটনা। আইনীভাবে এর বিচার হওয়ার দাবী জানান তিনি। এ ব্যাপারে ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন জানান, এমন একটি ম্যাসেজ তিনি শুনেছেন। কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •