বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্য হারাতে বসেছে নবীগঞ্জের রতনপুর জমিদার বাড়ি



এম,এ আহমদ আজাদ,নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ) 
কালের বিবর্তনে পুরাতন দেয়ালের পলেস্তারা উঠে গেছে। ধসে পড়েছে ছাদ-দেয়াল। তবুও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে আজও জানান দিচ্ছে ঐতিহ্যের ইতিকথা। মনে হয় যেন দেয়ালে কান পাতলে হয়তো শোনা যাবে প্রাসাদের ব্যস্ত কৃতকর্মের গল্প। অথবা তাদের চলাচল থেকে সৃষ্ট পায়ের শব্দ। হাঁসি বা কান্নার আওয়াজ। অবহেলায়-অযতেœ ইতিহাসের পাতা থেকেও হারিয়ে যেতে বসেছে এমন একটি জমিদার বাড়ি।
নবীগঞ্জ উপজেলার ৬নং কুর্শি ইউনিয়নের রতনপুর জমিদার বাড়ি। এলাকায় মানুষের কাছে বড়বাড়ি বলেই পরিচিত। ভগ্নপ্রায় জমিদার বাড়ির বৃহৎ অংশে এখনো বসবাস করছেন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সুশীতল রায়সহ কয়েকটি পরিবার।
জমিদারির উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুশীতল রায় ও সুব্রত রায়সহ ৬ ভাই আলাদা আলাদা পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।
সুশীতল কুমার রায়ের আদিপুরুষদের হাত ধরেই এই বাড়ির উৎপত্তি। ১৮৯৬ সালে তৎকালীন জমিদার কীর্তি চরণ রায় এই বাড়ি নির্মাণ করেন। রাজকীয় নির্মাণশৈলীতে তৈরি বাড়িটি ছিল ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। এ বাড়িটির পাশ ঘেষে অবস্থিত অমৃতকুন্ড বিলটিও জমিদারির অংশ হিসেবে ছিলো।
প্রচলিত আছে, জমিদার কীর্তি চরণ রায়সহ তিন ভাই ছিলেন। কীর্তি চরণ রায় পরিবারের বড় ছিলেন। কীর্তিচরণ রায় এই বাড়িটি নির্মাণ করায় বাড়িটির নাম বড়বাড়ি বলেই প্রচলন হয়। লোকমুখে বড় বাড়ি বলেই পরিচিতি লাভ করে।
জানা যায়, বাংলা ১৩০৬ সাল থেকে প্রতি বছরই অনাড়ম্বরের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতো এ বাড়িতে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় বেশ কয়েক বছর পূজা বন্ধ থাকলেও আবার তা চালু হয়। ঐতিহ্যবাহী পূজা হিসেবে নবীগঞ্জ উপজেলায় সর্বজন পরিচিত বড়বাড়ির দুর্গাপূজা।
সুশীতল রায়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যত গুরুত্বপূর্ণ কোন উদ্যোগ এখন অবধি নেয়া হয় নি। তিনি বেশ কয়েকবার সরকার থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে ক্ষুদ্র পরিসরে সংস্কারের জন্য অনুদানের জন্য আবেদন করলেও তা সংস্কার কাজে খুব একটা ভূমিকা রাখে নি।
তিনি আরো জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই এই নিদর্শনের খোঁজে দর্শনার্থীরা আসেন। কিন্তু দিনেদিনে ভগ্নপ্রায় এই নির্দশন এর ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার পথে।
প্রায় ১২৫ বছরের পুরনো এই বাড়িটির অনেকাংশই এখন বিলীন হওয়ার পথে। ২০১৬ সালে বাড়ির এক পার্শ্ব অগ্নিকা-ে পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বাকি এক পার্শ্ব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রতনপুরের এই জমিদার বাড়িটি। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সরকারী উদ্যোগের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  •