বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শ্বশুরবাড়ির লোকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি



পূবের হাওয়া ডেস্ক ::: সংসার করতে না পারার জন্য অপু ও তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।

শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে বিচ্ছেদের খবর জানিয়ে এই অভিনেত্রী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘এই পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষটার সাথে থাকতে না পারাটা অনেক বড় ব্যর্থতা।’

পরে মাহি শ্বশুরবাড়ির লোকদের কাছ থেকেও ক্ষমা চেয়েছেন। ঘটনার প্রসঙ্গে মাহির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষটার কাছ থেকে আলাদা হয়েছি। এ মুহূর্তে আমার এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থা নেই।’

ঈদের সাত দিন আগে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় মাহিয়া মাহির। তখন তিনি জানান, তিনি এবং তার স্বামী আলাদাভাবে নিজেদের বাসায় ঈদ করবেন। ঈদের নামাজ পড়ে তার স্বামী অপু মাহমুদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাহিদের বাসায় আসবেন। পরে তাদের ঈদ শুরু হবে। শেষ পর্যন্ত এই ঈদে তেমনটা হয়নি। হঠাৎ এর মধ্যেই তাদের বিচ্ছেদের খবর এল।

হঠাৎ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বলেন, ‘মানুষের জীবনে অনেক কিছুই ঘটে। অনেক কিছু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। এইটুকু বলব, আমি অপুকে সম্মান করি। আমাদের মধ্যে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া নিয়ে কিছু বিষয়ে সমস্যা ছিল। যেটা হয়তো আমাদের সম্পর্ক টিকতে দিল না। হয়তো আরও কিছু বিষয় ছিল। আপনাদের কাছে অনুরোধ, তার ও আমার কোনো অসম্মান হোক তেমন কিছু চাই না। আর আমরা কেন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটা বলতে পারছি না।’

২০১৬ সালে বিয়ে করেন অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি। তার স্বামীর নাম পারভেজ মাহমুদ অপু। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে কম্পিউটার প্রকৌশল নিয়ে পড়ালেখা করে সিলেট শহরে নিজেদের পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করেন।

দুই পরিবারের সম্মতিতে সেই বছর ২৫ মে তাদের বিয়ে হয়। আগামী পরশু হতে যাচ্ছিল তাদের পঞ্চম বিবাহবার্ষিকী। এর ঠিক তার দুদিনে আগে তাঁদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত এল। বিয়ের মাসেই বিচ্ছেদ।

বিচ্ছেদের ব্যাপারে অপু বলেন, ‘এখনো বিচ্ছেদ হয়নি। তবে আমার আর মাহির পরিবার মিলে বিচ্ছেদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছি আমরা। শিগগিরই আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

কেন এই বিচ্ছেদ, জানতে চাইলে অপু বলেন, ‘ছয় মাস ধরে আমরা চূড়ান্ত চেষ্টা করেছি বিচ্ছেদটা ঠেকানোর, কিন্তু পারিনি। দুজনেরই চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। আন্তরিকতার খামতি ছিল না। ওর পরিবার আর আমার পরিবারের মধ্যেও একটা চমৎকার উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তারপরও দুজনের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াটা সম্ভব হচ্ছে না। দুজন মিলেই পরিবারের সবার সঙ্গে আলাপ করে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পর্কের ইতি টানতে হলো। আমাদের এই সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে কেউ ভুল ব্যাখা করবেন না প্লিজ। মাহিকেও ভুল বুঝবেন না। সংসার না হতেই পারে, তাই বলে আমরা যেন কাউকে দোষারোপ না করি। আমরা বন্ধু ছিলাম, আছি, থাকব।’

  •