রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গোলাপগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক হয়রানি চরমে



স্টাফ রিপোর্টার ::::
গোলাপগঞ্জের আবদুল আহাদ ওরফে নুর মিয়া সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সভাপতি। আর এ পদকে পুঁজি করে পল্লী বিদ্যুতের সকল অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করছেন। নানা বাহানায় গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। আহাদের নেতৃত্বে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এ চলছে সেবার নামে দুর্নীতির মহোৎসব। আর বিরোধীমতকে দমনে আহাদের অন্যতম বড় অস্ত্র পল্লী বিদ্যুৎ। ভরগরমে বিরোধী মতের লোকজনের বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন করে রাখার ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি এই আবদুল আহাদ। সাংবাদিকতার লেবাস গায়ে জড়িয়ে সব সময় ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি থাকায় সহজেই তিনি হয়ে ওঠেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিরঙ্কুশ ক্ষমতাবান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন গোলাপগঞ্জ এলাকায় এককভাবে রাজত্ব করছেন আবদুল আহাদ ওরফে নুর মিয়া। মিটার লাগানো, মিটার বদলানো, বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দেয়া, বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কাজসহ সকল কাজেই চলছে আহাদ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের রামরাজত্ব। উৎকোচ ছাড়া গোটা উপজেলার কোথাও কোন কাজই হয় না। দুর্নীতিবাজ এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমিতির সভাপতি আবদুল আহাদের মনোনীত দালালদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ হাতিয়ে নিচ্ছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। কর্মকর্তা কর্মচারীরা মিটার সংযোগসহ বিদ্যুতায়নের কাজে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করছে মোটা অংকের টাকা।
আবদুল আহাদের এসব অনিয়ম-দুর্নীতি ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ১নং বাঘা এখলাছপুরবাসী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। মাঝপথে আহাদের ক্যারিশমায় আটকে যায় তদন্ত কাজ। ফলে নির্বিঘেœ চলছে গ্রাহক হয়রানি। ফলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারিরা সেবার বদলে গোলাপগঞ্জবাসীকে হয়রানি করছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ পাওয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আবদুল আহাদ। অবৈধ টাকা তুলতে বিভিন্ন এলাকায় কমিটি করে দেওয়ার অভিযোগ আহাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দেওয়া এক আবেদন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার এখলাছপুরে আবুল বশরকে সভাপতি ও গিয়াস উদ্দিন সেক্রেটারি করে নয় সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন আব্দুল আহাদ। এই কমিটির মাধ্যমে এলাকার আড়াই শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে সর্বনিন্ম ১০ হাজার, সর্ব্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়।
বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৫০ হাজার টাকা, খুটি স্থাপনের জন্য স্থানভেদে ১০ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা, মিটার প্রদানের জন্য ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সভাপতি আবদুল আহাদ ও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে। আহাদের গঠন করা কমিটির দাবিকৃত টাকা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছন্ন করারও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া আবদুল আহাদ ওরফে নুর মিয়া তার বিরোধীমতকে চাপে রাখতে কিংবা দমন করতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। এর আগে দেওয়া হয় হুমকি। এ ধরণের হুমকির কারণে চলতি মে মাসেও গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় আবদুল আহাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রি হয়েছে।

  •