বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আইএসের গান ভারতীয় মিডিয়ায়,হামলা



শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলার পরই জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশকে তাক করেছে।

শনিবার ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে দেশটির টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়া টুডে এমন খবর দেয়। আইএসের হামলার ইচ্ছেপোষণের পেছনে পত্রিকা দুটি তাদের প্রতিবেদনে একটি বাংলা ভাষায় লেখা পোস্টার সামনে আনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএস সমর্থক একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে বাংলা ভাষায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘শিগগির আসছি, ইনশাআল্লাহ’ শিরোনামে পোস্টারটি প্রকাশ করা হয়।

পোস্টারের অর্থ পশ্চিমবঙ্গ অথবা বাংলাদেশে হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে, দাবি করা হয় প্রতিবেদনে। মুরসালাত নামে আইএসের শাখা সংগঠন এই পোস্টার টুইটারে প্রকাশ করেছে বলা হলেও প্রতিবেদনে ভারতীয় গণমাধ্যম সেটি সংযুক্ত করেনি।

তবে, আইএসের সেই পোস্টার পাওয়া গেছে। যেখানে বাংলা ভাষায় লেখা, ‘শ্রীঘই আসছে ইনশাআল্লাহ…’।

পোস্টারে ‘খিলাফাহ’র নুসরতে আমরা সদা প্রস্তুত’ স্লোগান সম্বলিত মুরসালাতের আরবি ক্যালিগ্রাফির লোগোও রয়েছে। যেটিকে ভারতীয় মিডিয়া আইএসের পরবর্তী হামলার টার্গেট পশ্চিমবঙ্গ অথবা বাংলাদেশ বলে খবর প্রকাশ করেছে।

মূলত তুর্কি ভাষার ভিডিও গানগুলোকে (নাশিদ) বাংলা ও ইংরেজি ভাষার সাবটাইটেলসহ প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। আর আল মুরসালাত আইএসের অনুবাদ বিভাগ। এই বিভাগ থেকেই এক টুইট পোস্টে বৃহস্পতিবার রাতে গানগুলো প্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্বের সন্ত্রাসবাদ, বিশেষ করে আইএসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সাংবাদিক মেলিসা তার টুইটার পোস্টে জানান, আইএসের অনুপ্রেরণামূলক ওই গানটির মূল ভিডিও আইএস সমর্থিত দারুল হিলাফের। ভিডিওটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করতে যাচ্ছে আল-মুরসালাত।

তিনি আরেক টুইট করেন, যেখানে ‘আমাদের কালো পতাকা’ অর্থাৎ ‘আওয়ার ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ ভিডিও নাশিদ’ লেখা রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র দিয়ে বাংলাদেশেও এই খবর হামলা হিসেবেই পরিবর্তন ডটকমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

সেটির সমালোচনা করে সুইডেন প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক তাসনিম খলিল তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আইসিসের নতুন একটা অনুবাদ বিভাগ আছে আল মুরসালাত। এদেরই বাংলা বিভাগ নতুন একটা নাশীদ (ধর্মীয় গান) রিলিজ করার আগে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিছিলো: ‘শীঘ্রই আসছে ইনশাল্লাহ’। সেই বিজ্ঞাপনটা দেখছে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক মুনশী সাংবাদিক। দেখে নিউজ করে ফেলছে যে আইসিস ‘শীঘ্রই আসছি’ বলে বাংলাদেশ আর ইন্ডিয়ায় হামলা করার হুমকি দিছে। এখন ইন্ডিয়ান পেপারের বরাতে এই নিউজ করতেছেন বাংলাদেশের কামেল সাংবাদিকরা। এই হইলো অবস্থা।’

  •