শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

চাই সমন্বিত উদ্যোগ



নভেল করোনা ভাইরাস কেভিড-১৯ পুরো বিশ্বকে তছনছ করে দিয়েছে। গত বৎসর শেষের দিকে চীনের উহান শহরে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। মানুষের সর্দি জ্বর কাশী মাথাব্যাথা ডায়রিয়ার পর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এভাবেই আস্তে আস্তে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই ভাইরাসটি খুবই ছোঁয়াচে। এক গবেষণায় দেখা যায় এটা আক্রান্ত রোগী থেকে ছয়ফুট দূরবর্তী ব্যাক্তির মাঝে সংক্রামিত হতে পারে। অল্প দিনের মধ্যে কেভিড -১৯ করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীতে ছড়াইয়া পরে। ইতিমধ্যে পৃথিবীর প্রায় ১৮৮ টি দেশে করোনা ভাইরাস ছডযিে পডে তার তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত এই মরণঘাতি মহামারীতে বিশ্বের প্রায় ৭০ হাজার এর অধিক লোক প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্তের পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ। চীন ইরান ইতালী স্পেন যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য প্রভৃতি শক্তিশালী দেশ করোনা ভাইরাসের করুন ছোবলে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী ধরা পরে। এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আইইডিসিআর এর হিসাব অনুযাযী মারা গেছেন ১৩ জন।
করোনা ভাইরাসের লক্ষণ হিসাবে প্রথম সর্দি কাশি জ্বর হবে। গলা ব্যাথা ও হালকা ডায়রিয়া হবে। ৭ দিন পর জ্বর বৃদ্ধি পাবে, শুকনো কাশী ও ডায়রিয়া বেড়ে যাবে। তখন শ্বাসকষ্ট দেখা দিবে।
শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হতে হবে। করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদের কি করনীয় বিষয়কে আমরা তিন ভাগে ভাগ করি। প্রথম হলো ট্রান্সমিশন ভেকেশন। সামাজিক বিচ্ছিকীকরণ প্রত্যেককে আলাদা করে রাখা। কোন রোগীর সংস্পর্শ বা আশেপাশে আসতে পারে এরকম সন্দেহ ভাজনদের কোয়ারেন্টাইনে বে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে ১৪ দিন। যেহেতু করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত বের হয়নি তাই ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে এবং সামাজিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করণের মাধ্যমে এই ছোঁয়াচে মরণঘাতি মহামারী থেকে পরিত্রাণ পাবার একমাত্র উপায়। ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মাঝে যাতে এই ভাইরাস সংক্রামিত হতে না পারে সেজন্য সব ধরনের জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে সব ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠান ওয়াজ মাহফিলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সড়কপথ রেলপথ নৌপথ ও বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মসজিদে জামাতে নামাজ পড়া স্থগিত করা হয়েছে। জরুরী সার্ভিসগুলো সীমিত আকারে চালু রয়েছে। বস্তুত সারা দেশ লকডাউন করে রাখা হয়েছে।
যেখানে করোনা রোগী থাকতে পারে সন্দেহ হলে তাদেরকে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা রোগী সনাক্ত হলে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। মানুষের সামাজিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার করনে যে অসুবিধা সৃস্টি হবে তা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সমাজের পাঁচটি স্তরে এই প্রণোদনা সাপোর্ট দেয়া হবে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের উপর এর প্রভাব পড়বে। তবে সরকারের এই উদ্যোগ শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুষম বন্ঠন করতে হবে। ইতিমধ্যে নানান ধরনের অনিয়মের কথা শুনা যাচ্ছে। সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি দেখাতে হবে। এখন প্রয়োজন দল মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে একত্রিত করে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা। তাহলে আমরা আবারো একাত্তরের মত এই যুদ্ধেও জয়লাভ করতে পারবো।

  •