বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মানবতাবোধ জাগ্রত হউক : নিজামুল হক লস্কর



গৃহবন্দী! আমি একা নই, প্রায় পুরো বিশ্বের মানবসমাজ!! কিন্তু কেন? কোন অপরাধে? কার অপরাধে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে মানবজাতীকে নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই। প্রকৃতি বোধকরি আর সহ্য করতে পারছেনা গ্রষ্টার সৃষ্ট সর্বোত্তম জীব হওয়া সত্তে¡ও মানুষের প্রতি মানুষের অবিচার, নিপীড়ন-নির্যাতন, শোষন-বন্চনা, অনাচার এবং বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রের ঝংকার দেখে। প্রকৃতি তাই এমনভাবে বিদ্রোহ করেছে করোনা ভাইরাস দিয়ে যার কাছে তথাকথিত সকল ক্ষমতাবানরাই অসহায়; মিশাইল, এটমবোমা, হাইড্রোজেনবোমা, নিউক্লিয়ারবোমা, ড্রোন, এয়ারক্র্যাফট, সাবমেরিন কোন কিছুই কাজে লাগছেনা। অথচ এগুলোর অভিশাপে কত লক্ষ লক্ষ মানুষ নিরন্ন-বিপন্ন অবস্হায় দেশান্তরী হয়ে বছরের পর বছর ধরে শরনার্থীর মানবেতর জীবন-যাপন করছে। আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়া, ফিলিস্তিন ও বার্মার রোহিঙ্গাদের শরনার্থী জীবনের অবর্ণনীয় দুঃখ- কষ্টের বোঝা প্রকৃতি আর বহন করতে পারছেনা। শুধু কি তাই, বিভিন্ন দেশে না না কালা-কানুন দিয়ে ধর্মীয় ও অন্যান্য সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের লোককে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়, ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দিয়ে উৎখাত করা হয়, হত্যা করা হয়। শুধুমাত্র একটি বছরের অস্ত্র উৎপাদন, বিপনন, বাজারজাত করন,ক্রয়-বিক্রয়,পরিবহন খাতে প্রতিটা দেশ যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে তা যদি প্রত্যেক দেশের আইনপ্রনেতারা বাজেট প্রদানের সময় ২০২১ সনের তাদের স্ব স্ব দেশের বাজেট প্রণয়নে শুন্যের কোটায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করে এবং ঐ অর্থ নির্যাতিত, নিপীড়িত, দরিদ্রপিড়ীত ও শরনার্থীদের পুনর্বাসনে ব্যয় করা হয়। তাহলে কোন দেশেই আর কোন গৃহহীন মানুষ থাকবেনা ; এমনকি অপর মৌলিক প্রয়োজনগুলোও যেমন খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষার চাহিদাও পুরন করা যাবে। ঢাকা, কলিকাতা, মোম্বাই, করাচিসহ বিশ্বের অনেক বড় বড় শহরে যে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিবাসীগন আছেন তাদেরকে মানবেতর জীবন থেকে পুনর্বাসনের কাজে ব্যয় করা যাবে। বিকাশ স্বরূপের ‘স্লামডগ মিলিনেয়ারের ‘ মত কারো ভাগ্যতো বদলানো যাবেনা। অথচ এতোসব মারানাস্ত্র উৎপাদন করা হয় মানুষ হয়ে মানুষকে মারার জন্যেই।জাতিসংঘের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র পরবর্তী সাধারন অধিবেশনে এ মর্ম্মে অঙ্গীকার করুক ২০২১সনের স্ব স্ব রাষ্ট্রীয় বাজেটে অস্ত্র ক্রয়,বিপনন ও উৎপাদনে কোন বরাদ্দ রাখা হবে না বরং ঐ অর্থ বিপন্ন মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। প্রত্যেক দেশের সুশীল সমাজকে জোড়ালো কন্ঠে আওয়াজ তুলতে হবে, যোগাযোগের যে মাধ্যমই আপনি ব্যবহার করেননা কেন নিজেকে ও মানবজাতিকে রক্ষার স্বার্থে সকলকেই নিজ নিজ অবস্হান থেকে একযোগে এ বিষয়টি নিয়ে উচ্চকন্ঠে এগিয়ে আসার সময় এসেছে। অরূন্দুুতি রায়,ডঃ জাফর ইকবালের মত বিদগ্ধজনেরাতো লিখবেনই, পাশাপাশি সুশীল সমাজের সকল স্তরের মানুষের একাট্টা হয়ে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ কোটি মানুষ প্রতিদিন না না বিষয়ে লেখালেখি করে যাচ্ছেন, এখনতো সময় এসেছে মানবজাতিকে রক্ষার প্রশ্নে জোড়ালো কন্ঠে আওয়াজ তোলার। ভাল-মন্দ বুঝবার ক্ষমতা দিয়ে, সৃষ্টিশীল কাজ করার চিন্তাশক্তি দিয়ে স্রষ্টা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন, একজন মানুষ যে ধর্ম্মেই বিশ্বাস করুক না কেন অন্তত এ বিষয়ে সকলেই একমত। তাহলে একজন মানুষ অপর মানুষের ক্ষতি হোক এমন কোন কাজ করতে পারে না। এ মানবতাবোধ জাগ্রত হবে দেশে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রতিক্রিয়ায়, এ প্রত্যাশা।

  •