বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পরিবেশ অধিদপ্তরের সুকুমারের প্রশ্রয়ে বাইপাসে বেপরোয়া চলছে মাটি কাটা



পূবের হাওয়া ডেস্ক :::
সিলেটে ফসলি জমির টপসয়েল কেটে ইটভাটা ও ভরাট কাজের জন্য মাটি বিক্রি করছে একদল মাটি ব্যবসায়ী।  গত দুই-তিন বছর ধরে সিলেট সদর উপজেলার বাইপাসে ফসলি জমি থেকে টপসয়েল কেটে নেওয়ার পাশাপাশি গভীর গর্ত করায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, সড়কসহ বাইপাস এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে এসকল জমির উপরের উর্বর অংশসহ মাটি কেটে নেওয়ায় উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে জমিগুলো। পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর সুকুমার সাহার সহযোগিতায় বেপরোয়াভাবে চলছে মাটি বিক্রির এই ব্যবসা। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন মাটি বিক্রেতাদের সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতার কথা অস্বীকার করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট শহর বাইপাস এলাকায় আভিজাত্যের ছোঁয়া লেগেছে। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। বাসাবাড়িও হয়েছে প্রচুর। বাইপাস এলাকায় বিকেএসপি পার হওয়ার পর রাস্তার দু’ধারে বিস্তীর্ণ জমি রয়েছে। এরমধ্যে সরকারি, জমির পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি থেকে এক্সেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকযোগে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সুরমা গেইট বাইপাসে পরগনা পলিয়া, হাতুড়া, মেলানবিল এলাকার অন্তত ১০টি স্পটে এক্সেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রতিটি স্পটে ২ থেকে ৩টি করে দানবযন্ত্র এক্সেভেটর চালাচ্ছে মাটি ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন শতশত ট্রাকে করে মাটি বিভিন্ন স্থানে ভরাটের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে করে রাস্তার বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই সড়ক পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এসকল এলাকায় মাটি কাটছে খাদিমপাড়া ইটভাটা রোডের সুভাষ ওরফে মাটি সুভাষ, ভাটপাড়ার রাসেল, শাহপরান ছড়ারপারের জাহাঙ্গীর, চোরাকারবারী আবুল হাসনাত, চৌধুরীপাড়ার দখলবাজ আবদুল মন্নান, কল্লগ্রামের আলমগীর ওরফে মাটি আলম, ভূমিমালিক আবদুল খালিক, পরগনা পলিয়া এলাকার শফিক মিয়া, সেবুল আহমদ ও রশিদ মিয়া, বংশীদর গ্রামের তহিদ, হাতুড়া মেলানবিল এলাকায় মাটি কাটছেন হাতুড়া গ্রামের আশরাফ উদ্দিন রাজু, কামাল উদ্দিন, রহমত আলী কাজী, নওয়াব আলী, আবদুস সালাম ও সুফিয়ান আহমদ।
স্থানীয়রা জানান, মাটি ব্যবসায়ীদের সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর সুকুমার সাহার দহরম মহরম রয়েছে। তার মাধ্যমেই পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যাতে মাটি কাটার সময় কোনো ধরণের অভিযান পরিচালনা না করে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রতিদিন বিকেলে উল্লেখিত মাটি ব্যবসায়ীরা দক্ষিণ সুরমার আলমপুর এলাকায় ইন্সপেক্টর সুকুমার সাহার হাতে তুলে দেন দৈনিক চাঁদা।  যে সকল স্পট থেকে টাকা সুকুমার সাহার হাতে পৌঁছে না সে সকল স্পটে সুকুমার সাহা অভিযান পরিচালনা করে থাকেন।
পরিচয় গোপন করে মাটি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর ও সুভাষের সাথে মাটি কেনার ব্যপারে আলাপ করলে তারা ইন্সপেক্টর সুকুমার সাহার মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করার কথা স্বীকার করে। জাহাঙ্গীর ও সুভাষ বিভিন্ন সময়ে বলে থাকে সুকুমার সাহার কারণে চলছে মাটিকাটা। অভিযানের কথা তিনি আগেই জানিয়ে দেন। ফলে যারা নিয়মিত বখরা না দেয়, তাদের স্পটে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন মাটি কাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো সহযোগিতা নেই বলে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি কোনো ধরণের মাটিকাটাকে প্রশ্রয় দিই না। তার অফিসের সুকুমার সাহার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে তথ্য পাচারের বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ পলাশ বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। সিলেটের পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

  •