বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জামালগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমের সড়ক করে দিলেন সমাজসেবী মাহবুব



মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ ::::
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উপজেলা সদরের পার্শ্ববর্তী গ্রাম দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামে খানাখন্দে ভরা অর্ধ কিলোমিটার রাস্তা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নিজস্ব অর্থায়নে করে দিলেন ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমান। গত সোমবার রাতে এ সংস্কার কাজ করা হয়। সংস্কারের কারণে সড়কটি যাতায়াতের উপযোগী হয়েছে বলে জানায় পথচারীরা। মাহবুবুর রহমানের অর্থায়নে এবং গ্রামের যুবকদের স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটিতে কাজ করা হয়।
স্থানীয়া জানিয়েছেন, উপজেলা সদরের রাস্তা হতে দক্ষিণ কামলাবাজ হয়ে নয়াহালট পর্যন্ত এলজিইডির ২ কিলোমিটার রাস্তা গত বছরের বন্যায় বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দসহ বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। পুরো রাস্তায় গর্ত খানাখান্দ থাকায় যানবাহন, রিক্সা, অটোরিক্সা ও সিএনজি চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হতো। বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে রাস্তায় পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। এখানকার লোকজনের উপজেলা সদরে আসার একমাত্র রাস্তা এটি। যার কারণে অতি কষ্টে মানুষজন চলাচল করতে হতো। এ ব্যাপারে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তাটি সংস্কারে বারবার আবেদন করলেও তারা মেইন্টিনেন্সের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়ে বলে জানান। কিন্তু দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও মেইন্টিনেন্সের বরাদ্দ আসেনি। পরে ঈদের বন্ধে দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামের ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য বাড়িতে আসেন এবং রাস্তার বেহাল দশায় গ্রামের যুবকেরা তার কাছে তা সংস্কারের দাবি জানালে তিনি ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে রাস্তাটি সংস্কারের কাজে হাত দেন।
দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা এম আল আমীন বলেন, আমাদের গ্রামের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে যুবক ছেলেরা ও সমাজসেবী মাহবুবুর রহমানের সহায়তায় গ্রামের দীর্ঘদিনের খানাখন্দেভরা রাস্তাটি সংস্কার করায় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই।
মাহবুবুর রহমান জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং গ্রামের যুবকদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের কাজে হাত দেই। তবে এই সংস্কার স্থায়ী নয় বলেও জানান তিনি। সড়কটি স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
গ্রামের কয়েকজন মুরব্বী জানান, আমরা জামালগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার রাস্তাটি সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। তারা প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে আমাদের জানায়। কিন্তু দুই বছর অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ না আসায় জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকে। তাই আমাদের গ্রামের সমাজসেবক মাহবুবুর রহমানের অর্থায়নে রাস্তাটি মোটামুটি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন যুবক জানায়, আমাদের গ্রামের খানাখন্দে ভরা রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গিয়েছিল। মাহবুব ভাইয়ের সহায়তায় ও আমাদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আপাতত চলাচলের উপযোগী হয়েছে। বাকি কাজটুকু যেন এলজিইডি কর্তৃপক্ষ করেন সেই জন্য গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া জামালগঞ্জ অটোরিক্সা মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কামলাবাজ কবরস্থান থেকে নয়াহালট পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কে ২০ হাজার টাকা খরচ করে বিশ গাড়ি ইটের শুক্রিট এবং ৪ জন শ্রমিক দিয়ে খানাখন্দ ভরাট করা হয়েছে।

  •