শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বড়লেখায় বিএনপির নেতাকর্মীদের চাপা ক্ষোভ : তৃনমূলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া, মানতে নারাজ একাধিক নেতা



আশফাক জুনেদ,বড়লেখা:: দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বছরের ৬ ডিসেম্বর রবিবার বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিনা প্রতিদন্ধীতায় বিএনপি নেতা আব্দুল হাফিজকে সভাপতি ও মুজিবুর রহমান খসরুকে সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত করে উপজেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঘোষনার এক মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও এর প্রায় ছয় মাস পর গত ১৮ মে ( মঙ্গলবার) ঘোষনা করা হয় ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি। আর এই কমিটি ঘোষনার পর উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা সমালোচনা। কমিটিতে অনেক সিনিয়র নেতার পদ না পাওয়া, ত্যাগীদের মুল্যায়ন না করা, অনেককে অবমূল্যায়ন সহ নানা অভিযোগ উঠেছে সদ্য ঘোষিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিরুদ্ধে। অনেকে এই কমিটিকে রিসোর্ট কমিটি বলেও আখ্যায়িত করেছেন। কমিটিতে সভাপতি আব্দুল হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খসরুর পরিবারের একাধিক সদস্যও স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দলীয় সুত্রে জানা যায়,গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বড়লেখা পৌর এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি নেতা আব্দুল হাফিজ সভাপতি ও মুজিবুর রহমান খসরু সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। সম্মেলনে বিএনপি নেতা আব্দুল হাফিজের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি এম নাসের রহমান। কমিটি ঘোষনার পর এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ছয় মাস পর ঘোষনা করা হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। বহুল প্রতিক্ষিত এই কমিটি ঘোষনার পরই শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।

গত (১৮মে) বিভিন্ন গনমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমিটি ঘোষনার খবর প্রকাশ পেলে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। বিএনপির একাধিক নেতা এই কমিটি মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ সিনিয়র নেতাদের সাথে কোনরকম যোগাযোগ ছাড়াই কিছু নেতা নিজেদের মন মতো কমিটি তৈরি করে জেলা থেকে অনুমোদন আনিয়েছেন। এই কমিটিতে অনেক ত্যাগি নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে এবং অনেক অখ্যাত নেতাদের স্থান দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, সদ্য ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অনেক সিনিয়র নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। দলের নিবেদিত প্রাণ অনেককে কমিটিতে রাখা হয়নি। এছাড়া আগের কমিটিতে পদে ছিলেন এমন নেতাদের এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। কিছু নেতা নিজেদের মতো করে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেছেন এবং তাথে নিজেদের মানুষদের কমিটির গুরুত্বপুর্ন পদে পদায়ন করেছেন যা একটি দলের জন্য কল্যানকর নয়। আন্দোলন সংগ্রামে দলের সম্মুখ সারির অনেক নেতা নাকি কমিটিতে স্থান পাননি এমন অভিযোগও করেছেন দলের সিনিয়র নেতারা।

নতুন কমিটিতে বিএনপির সাবেক নেতাদের অবমূল্যায়নের যেমন অভিযোগ আছে তেমনি বড়লেখা পৌরসভার সাবেক মেয়র প্রভাষক ফখরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা ইসলাম উদ্দিন, কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন, তুতিউর রহমান তুতাব আলী, মুহিবুর রহমান ফারুকসহ অনেক নেতাদের দলের নির্বাহী কমিটিতে রাখা হয়নি।

অন্যদিকে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি আব্দুল হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খসরুর পরিবারের একাধিক সদস্যকে বিভিন্ন পদে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন দলের একাধিক নেতা। দলের ত্যাগি নেতাদের বাদ দিয়ে নিজের পরিবারের সদস্যদের কমিটিতে রাখায় ক্ষোভ জানিয়েছেন নেকাকর্মীরা। পদ পাওয়া এসব নেতারা দলের আন্দোলন সংগ্রামে কতটা ভুমিকা রেখেছিলেন বা আদৌ কতটা রাখবেন এমন প্রশ্নও তুলেছেন তৃনমূলের নেতা কর্মীরা।

সদ্য ঘোষিত কমিটির উপদেষ্ঠা মন্ডলির সদস্য বিএনপি নেতা তুতিউর রহমান তুতাব বলেন, সদ্য ঘোষিত এই কমিটি আমি মানিনা। কিছু নেতা মিলে এই কমিটি করেছেন যেখানে ব্যাপকভাবে স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। এক পরিবারের পাঁচ জন ছয়জন করে ঢুকানো হয়েছে। বিএনপির পরীক্ষিত অনেক সৈনিককে এখানে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি আমি প্রত্যাখ্যান করছি।

সদ্য ঘোষিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক(২) ও বড়লেখা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাসনা বলেন, বড়লেখার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ কমিটি করা হয়েছ এবার। কমিটিতে সিনিয়র জুনিয়র ম্যানটেন করা হয়নি। দেখা গেছে অনেক সিনিয়র নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে আবার অনেক অনেক জুনিয়রদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমি কখনোই চাইনি সাংগঠনিক সম্পাদক দুইজন হোক। আমি সবমসময় বলে এসেছি যে কোন একজনকে দেওয়া হোক। এখানে আমাকে খুশি করার জন্য সাংগঠনিক সম্পাদকের দুইটা পদ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খসরু বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে একটি মহল উপজেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করছি। আমরা দীর্ঘ পাঁচ মাস সবকিছু অবজারবেশন করে এই কমিটি দিয়েছি। এখানে দলের কার্যক্রমে কিংবা সভায় যারা নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছে তাদেরকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। আর যারা নিষ্ক্রিয় ছিলো তাদেরকে বাদ দেইনি তাদের রাজনীতি করার স্বার্থে সদস্য পদে রেখেছি। এখানে কাউকে অবমূল্যায়ন করা হয়নি।

  •